যশোরে সড়ক উন্নয়ন কাজে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের প্রধান প্রবেশপথ শাহ আব্দুল করিম সড়ক। প্রতিদিনই হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকাজ এখন মানুষের দুর্ভোগের প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে। মুজিব সড়ক সংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশন হয় এই ড্রেন দিয়ে, ফলে এলাকাবাসী পানি কাদায় এলাকার হয়ে ভীষণ কষ্টময় দিনযাপন করছেন। সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন নিয়ে তাদের একটি কথা, এই দুর্ভোগ আর কতদিন চলবে। কবে তারা এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চললেও অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বর্ষা এলেই সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা কাদা, বালু ও খোয়ার কারণে চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। পানি ঢুকে পড়ে আশপাশের দোকান, বাড়ি ও ছাত্রাবাসে। শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা গুনছেন আর্থিক ক্ষতির হিসাব।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে কংক্রিট ঢালাই শেষ হলেও দীর্ঘদিন সেখানে কচুরিপানা, বালু ও খোয়া পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের মুখ নির্মাণসামগ্রী ও ময়লায় আংশিক বন্ধ হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। আবার কয়েকটি স্থানে ড্রেন নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশ দীর্ঘদিন মাটি দিয়ে ভরাট না করায় পথচারীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে ঘটেছে দুর্ঘটনাও।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগেও বৃষ্টি হলেই পানি ড্রেন দিয়ে নেমে যেত। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে গত প্রায় দুই বছরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এখন মাঝারি বৃষ্টিতেও পানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমে থাকে। ফলে পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাদার সাথে লড়াই করে স্থানীয়দের চলাচল করতে হয়।

সরকারি এমএম কলেজের কারণে এলাকা জুড়ে অসংখ্য ছাত্রাবাস থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষাকালে স্বাভাবিক জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯’ প্রকল্পের আওতায় শাহ আব্দুল করিম (এমএম কলেজ) সড়কের উন্নয়নকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনবি-আরএসই-এসএইচজে (জেভি)। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এবং এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগে সমাপ্ত হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বাকি কাজ এখনও ঝুঁলে আছে। ঢিমেতালে চলছে কাজের গতি। আর এ কারণে অতিবাহিত হয়েছে প্রায় দুই বছর। যার যন্ত্রণা ভোগ করছে এলাকাবাসী, তারা জানে না এ যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবেন।

নির্মাণ কাজের অগ্রগতি, বিলম্বের কারণ এবং স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসানের উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্রকৌশলী মাসুদ সরকার বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে একাধিক বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “জমি নিয়ে স্থানীয় বিরোধের কারণে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে দীর্ঘ সময় লেগেছে। রাস্তা খননের পর অপসারিত মাটি এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলতে হয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বারবার কর্মস্থল প্লাবিত হওয়ায় রাস্তার মাটি ধসে যায়। ফলে স্বাভাবিক গতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

নির্মাণকাজের ধীরগতি, জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের বিষয়ে যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, শাহ আব্দুল করিম সড়ক এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি দীর্ঘদিনের প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই এলাকার পানি মূলত দুটি পথে শহরের বাইরে যায়। একটি টার্মিনাল এলাকার পাশ দিয়ে এবং অন্যটি ধর্মতলা হয়ে। খড়কি এলাকার উচ্চতা ভৈরব নদের পাড়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ ফুট নিচু। ফলে এখানকার পানি সরাসরি ভৈরব নদে ফেলা যায় না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন